জিরো টলারেন্স-এর জুমলাবাজি চলছে এখন বাংলায়। চুনোপুঁটি ধরে হাফ প্যান্ট আর স্যান্ডো গেঞ্জি পরিয়ে পাড়ার র্যাম্পে ক্যাট ওয়াক চলছে। এদের থেকে একটু বড় গোছের যারা মানে বাটা মাছ বা ল্যাটা মাছের সাইজের তাদের কোমরে দড়ি লাগছেনা। দিব্যি সসম্মানে পুলিশের গাড়িতে উঠছে। পাবলিক মজায় আছে। জাল পাতা হয়ে গেছে। এবার ধরা পড়বে। জিরো টলারেন্স-এর জুমলা চলছে। এটা এক ধরণের পাবলিসিটি স্টান্ট।
একটা বড় কোম্পানি ইলেক্টোরাল বন্ড কিনেছে। একে বড়সড় রুইমাছ বলতে পারেন। কোম্পানির নাম Future Gaming and Hotel Services। এটি একটি লটারি কোম্পানি। এই কোম্পানি যত বেশি চুরি করছে তত বেশি বন্ড কিনছে। এই কোম্পানি সারা ভারতে বিভিন্ন দলকে সবচেয়ে বেশি অর্থদান করেছে। এরা সবচেয়ে বেশি বন্ড কিনেছে তৃণমুল কংগ্রেসের। এই কোম্পানির বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপ, লোক ঠকানো, ভুল তথ্য জমা দেওয়া ও তথ্য দিতে অস্বীকার করা, সঠিক হিসেব না দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে ED বহু হাই প্রোফাইল মামলা করেছিল। কিন্তু বন্ড কেনার পর সেইসব মামলা তাকে তুলে রাখা হয়েছে। কোম্পানি বহাল তবিয়তে চলছে। আগে যেমন অর্থ তছরুপ করত তার চেয়ে হয়তো বেশি করে করছে। এরা এখন জিরো টলারেন্স-এর জালের বাইরে বেরিয়ে গভীর জলে সাঁতার করছে।
অর্থদাতাদের মধ্যে দ্বিতীয় মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং। এটা একটা বড়সড় কাতলা জাতের মাছ। এদের ব্যাবসার ক্ষেত্র মূলত কনস্ট্রাকশন ও মাইনিং সেকটর-এ। অনৈতিক উপায়ে টেন্ডার পাওয়া ও জালিয়াতিতে এরাও সিদ্ধহস্ত। এখানেও ED গেছে। চুরি ধরা পড়েছে. এই নিয়ে কোর্ট কাছারি হয়েছে বহুবার। যথারীতি এরা সবচেয়ে বেশি বন্ড কিনেছে বিজেপির। এক বছর আগে এই কোম্পানিটিকে আদানিবাবু কিনে ফেলবেন শোনা গিয়েছিল। সেটা হয়নি এখনো। এরা এখন গভীর জলে ডুব দিয়ে জিরো টলারেন্স-এর এখতিয়ারের বাইরে সাঁতার কাটছে। চুটিয়ে ব্যাবসা করছে।
চুনোপুঁটি, বাটা, ল্যটা, রুই, কাতলা তো দেখলাম। তাহলে রাঘব বোয়াল কোথায় গেল! আরে মশাই কোথায় আবার যাবে। রাঘব বোয়াল আছে বলেই তো বন্ড বিক্রি হচ্ছে। রাঘব বোয়ালদের কাছ থেকেই তো বন্ড কিনতে হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোই তো রাঘব বোয়াল। ধরা যায় নাকি! তবে এর মধ্যে একটা ব্যতিক্রম আছে। একমাত্র কমিউনিস্ট পার্টি এই বন্ড কেনাবেচার বাইরে বিচরণ করছে। তাই তারাই এই বিষয়ে কোথাও কোথাও টুকটাক ED-র গাড়ির কাঁচ ঠুকে দিচ্ছে।


0 Comments