আগামী পাঁচবছরের আগাম বার্তা

কি কি সব বেরোচ্ছে! সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে রাজপ্রাসাদে চলে গেলুম শিবপুরে। তিরিশটা রেস্টুরেন্টের খোঁজ পেলুম দুবাইতে। রান্নাঘর আর চেয়ার টেবিল ছাড়াই একটা রেস্টুরেন্ট চলছিল সাউথ দমদমে। খাটের তলায় আলু রাখার কায়দায় টাকা রেখে হাওয়া খেলানো দেখলুম। সাইকেল টু মার্সিডিজ। ছিল রুমাল হয়ে গেল বেড়াল। ফ্যাঁচফ্যাঁচ করতে করতে ১৫ বছর কাটিয়ে দিল।
 
যা দেখলাম তা ৩৪ বছরের সরকারে দেখা যায়নি। আগে সাইকেল টু মার্সিডিজ-এর জার্নি দেখিনি। মানুষের জন্যে কাজ করতে গিয়ে আগে এইসব দেখিনি। জমিদার বাড়ির ছেলে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে সন্ন্যাসী হয়ে গেল। নিজের মেধা ও শক্তি দিয়ে দক্ষতার সঙ্গে সাধনা করে চলল। রাজনীতি এইসব সন্ন্যাসীদের দেখেছে। তখন ছিল ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মতো ব্যাপার। বাড়ির ভাত খেয়ে তার সঙ্গে ঝ্যাঁটা লাথি ফ্রি খেয়ে মিটিং মিছিলে যাওয়া। তারপর এল ভয় পাইয়ে মিছিলে নিয়ে যাওয়া্র যুগ। তারপর এল মিছিলে না গেলে ভয় পাওয়ানোর যুগ। তবে তেমন চুরি কখনো দেখতাম না।

তারও আগে একটা যুগ ছিল। স্বাধীনতার আগে ও পরে আত্মগোপন করে থাকতে হত। ব্রিটিশ সরকার আর তারপরের স্বাধীন সরকার ধরপাকড় চালাত। জেলে পুরে রাখত। রাজা প্রজার ফারাক বেড়ে গেল। রাজা বসল সিংহাসনে। প্রজা ঢুকল জেলে। কেউ আন্দামানে। কেউ আলিপুরে। কেউ ফাঁসিতে ঝুলে গেল। কেউ জেলে পচে গেল। মানুষের ভবিষ্যতের কবর খোঁড়া তখন থেকেই শুরু।

এখন আবার সরকার আলাদা। এরাও কিন্তু সততার প্রতীক। ৩৪ বছরের রাজত্বের অবসানের পর সততার প্রতীক ছাপ্পা লাগিয়ে বছর দুয়েক ঘুরতে দেখেছিলুম সবাইকে। পরের তের বছর যার যার তার তার দেখতে পেলুম। এবার একটু আলাদা রকমের সততার উদাহরণ আসবে। সততার সঙ্গে বাংলার ভারতায়ণ হবে। আগামী পাঁচ বছরের প্রথম দুবছর সততার উত্তেজনায় কাটবে।

Post a Comment

0 Comments