কিছু দিনের মধ্যেই দফতরের মৌচাকের খোঁজ পেয়ে গেল ছাঙ্গু। কম দিনের মধ্যেই ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র লিক করার এজেন্ট হয়ে গেল। একবার প্রশ্ন বেচে মোট পাঁচ ট্রাঙ্ক টাকা ওর বাড়িতে লুকিয়ে রাখতে হয়েছিল। ভাগবখরা হওয়ার আগেই সেখান থেকে এক ট্রাঙ্ক টাকা ঝেড়ে দিয়েছিল ছাঙ্গু। ছাঙ্গুর উড়ান এখান থেকেই।
এতে আমি অন্যায্য কিছু দেখিনি। চারপাশে টাকা উড়ছে। রাম শ্যাম যদু মধু লাফিয়ে লাফিয়ে টাকা লুফছে। হাজার থেকে হাজার কোটি। যার যেমন সামর্থ্য! ছাঙ্গুর সামর্থ্য তখন মাত্র এক ট্রাঙ্ক। বাকি চার ট্রাঙ্ক টাকা হরেরামের কাছে গেল। মন্ত্রী হরেরাম তার পুরোন বোম বানানোর কারিগরদের খুব ভালবাসে। ছাঙ্গু এদের একজন। বুড়ো আঙুল উড়েছিল বলে মালিকের একটা সিমপ্যাথি ছিল। মন্ত্রী হরেরাম চাপরাশি ছাঙ্গুকে বকশিস হিসেবে তিন লাখটাকার একটা প্যাকেট দিয়েছিল।
ছাঙ্গু পরীক্ষার প্রশ্ন লিক করার মাস্টার তখন। পেছনে হরেরামের মাস্টারমাইন্ড। টুক করে এমএ বিএ পিএইচডি করে ফেলল। তারপর একটা বড় কোন পরীক্ষায় লিক করে সরকারি অফিসারের চাকরি পেয়ে গেল। এখন পুলিশের বড়কর্তা ছাঙ্গু। এই নামে আর কেউ তাকে তেমন ডাকেনা এখন। সে এখন স্বপন সরকার। সরকারি কাজ। সরকার তার পদবী। লোকে এখন ওকে শুধুই সরকার বলে ডাকছে। সরকারের উন্নতি হয়েছে। দিল্লিতে তিন চারটে ফ্ল্যাট কিনেছে। গ্রামে তিনশো বিঘা জমি কিনেছে। দুটো রেসর্ট করেছে।
হরেরাম মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ছাঙ্গুকে পলিটিক্সে নামতে বলেছিল। ছাঙ্গু তখন পুলিশের শীর্ষকর্তা। তার ওপর বুড়ো আঙুল নেই। বিকলাঙ্গ সার্টিফিকেট তো চাপরাশি আমলেই বাগিয়ে রেখেছে। সংরক্ষণের সু্যোগ পেয়ে তড়তড় করে পদোন্নতি হয়েছে। পুলিশের ফিল্ডে এইভাবে ভালই খেলছিল ছাঙ্গু। আরও তিনটে নতুন খালি ট্রাঙ্ক কিনেছিল। বছর দশেক এইভাবেই কেটে গেল ছাঙ্গুর।
তারপর সেবার ভোটে হারল হরেরামের পার্টি। গদি গেল। রাজপাট গেল। অন্য একটা দল এল। ছাঙ্গু এবার চাকরি থেকে রিজাইন দিয়ে হরেরামের দলে ঢুকে গেল। তারপর হরেরামের সঙ্গে ইচ্ছে করেই খটমট লাগিয়ে দল। ঝগড়াঝাঁটি হল। মারপিট হল। ছাঙ্গু বিপক্ষ দলে চলে গেল। ভোটে দাঁড়াল। দু’ট্রাঙ্ক টাকা খরচ করল ভোটে। এম্পি এমেলে হয়ে গেল ছাঙ্গু।
ছাঙ্গু আগে ছিল বড় আমলা। সেই সূত্রে মুখ্যমন্ত্রী হরেরামের ডানহাত বলে পলিটিক্সে ওর একটা কদর ছিল। পাকেচক্রে আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে গেল ছাঙ্গু। পদবী সরকার। সরকারি পদ। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের মতো ফিলিং!
হরেরাম বোম কারখানা করার অপরাধে এখন জেলের মধ্যেই পিসিং অ্যান্ড পিষিং। শুনছি ছাঙ্গু পুরোন পাপ ঝেড়ে ফেলতে চাইছে। কয়েকটা ঘোল্টে গেছে। কেউ গলায় দড়ি দিল। কেউ ট্রাকের ধাক্কায় মরল। কেউ জলে তলিয়ে গেল। কেউ গুলি খেল। এখন শুনছি ওর বুড়ো আঙুল উড়েছে সন্ত্রাসবাদীর গুলিতে। শুনছি দিনে হোটেলে কাজ করে রাতে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় পড়াশোনা করতে হত। খুব কষ্টের জীবন ছিল ওর। যাকে আমি ছাঙ্গু বলে জানতাম সে এখন শ্রী স্বপন সরকার।


0 Comments