পুরাকালে ভেন্দু রাজার রাজত্বে ভ্রমণপিপাসু এক চৈনিক পরিব্রাজক আসিয়া একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করিলেন।। তাঁর রচনা অণ্বেষণ করিয়া বঙ্গবর্ষ সম্পর্কিত প্রচুর তথ্য সম্বন্ধে অবগত হইলাম।
একদা বঙ্গবর্ষের রাজা হইলেন শ্রীমান ভেন্দু। তিনি একটি ধৌতযন্ত্রে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ধৌত হইয়া ভেন্দু হইতে হিন্দু হইয়াছিলেন। ধৌতযন্ত্রটি ছিল দৈব বিশ্বগুরুর আশীর্বাদপ্রাপ্ত। ধৌতকার্যাদি সম্পন্ন করিয়ে ভেন্দু একজন সুগন্ধি গৈরিক হিন্দুতে পরিণত হইয়াছিলেন। কথিত আছে তিনি তিনপাত্র আমিষ ভক্ষণ করিয়া ধৌতক্রিয়াযোগে নিরামিষ হইলেন। তিনি হিন্দু হইয়া জয়শ্রীরাম ধ্বনি তুলিয়া ঢোল করতাল বাজাইতেন। গৈরিক বস্ত্র পরিধান করিয়া তিনি সাধু সাজিয়াছিলেন। ভূর্জপত্রমন্ডিত টাকার স্তূপ তাঁহার গৈরিক চরিত্রে কালিমালিপ্ত করিতে পারে নাই।
ভেন্দুরাজার তেজদ্বারা কুপিত হইয়াছিল বঙ্গবর্ষের সুপ্রাচীন ও বিশ্ববরেণ্য বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ। ভেন্দুরাজা পুস্তকহন্তা ছিলেন। পুস্তক দেখা মাত্রই তিনি বুলডোজার দ্বারা তাহা ধ্বংস করিয়া ফেলিতেন। তাঁহার অনুগামীসকল করতালি দিয়া সমস্বরে ও তারস্বরে ভেন্দুরাজাকে অভিবাদন করিত। শান্তিপ্রিয় প্রজাসকল রাজার এইরূপ দাপট দেখিয়া ভীত সন্ত্রস্ত থাকিত। অধিকাংশ প্রজা ভোটার কার্ড উন্নীতকরণে ব্যস্ত থাকিত।
ভেন্দু রাজার রাজত্বে বিনোদনের অন্ত ছিলনা। রাজার এক মন্ত্রী পেনাল্টি পিসি আখ্যায়িত হইয়া প্রজাসকলের বিনোদনের প্রতীক হইয়াছিলেন। “ইহার সঙ্গে উহার কোন সম্পর্ক নাই” মন্ত্র জপ করিতেন আরেক মহাপ্রভু। কোথাও কোন অঘটন ঘটিলেই উনি সম্পর্কের মাসি পিসি গুলাইয়া দিতেন। পিতা পুত্র ভুলাইয়া দিতেন। স্থূলমস্তিষ্কবান মন্ত্রী ও অমাত্যগণ বিদ্যাসাগরে আরও রবীন্দ্রনাথে কোন বিভেদ রাখিতে চাহিতেন না। তাঁহারা রবীন্দ্রলিখিত বর্ণপরিচয় পাঠ করিতেন। তাঁহারা নেতাজিকে দুষ্কৃতী কহিতেন। তাঁহারা গর্দভ শিক্ষাপ্রাপ্ত ছিলেন।
ভেন্দুরাজা মুখেন মারিতং জগৎ তত্ত্বের অধিকারী ছিলেন। তিনি রাজা হইয়া বালখিল্য আচরণ করিতেন বলিয়া তাঁহাকে অনেকে বালভেন্দু বলিয়া সম্ভাষণ করিতেন। বঙ্গবর্ষের মতোই ভারতবর্ষের রাজাকে বালনরেন্দ্র বলা হইত। বালনরেন্দ্র রাজার ভাবশিষ্য হইয়া ভেন্দুর রাজত্ব দুগ্ধকদলী সহযোগে খাসা চলিতেছিল। [চলিবে]


0 Comments