দেশদ্রোহীদের চেনার সময় এসেছে

অশিক্ষিত, কুশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত জনতা মানুষটাকে নিয়ে যাচ্ছেতাই বলছে। একজন দেশপ্রেমিককে অসভ্য অর্ধশিক্ষিত ধর্মান্ধ সুবিধাভোগী সুযোগসন্ধানী গোবরমার্কা পাবলিক রাষ্ট্রদ্রোহী বলে দাগিয়ে দিচ্ছে। বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ও বিজ্ঞানি সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করার জন্যে সরকারের পোষা মিডিয়াগুলো পরিকল্পিত ভাবে প্রচারপর্ব চালাচ্ছে। এই মগজহীন যুগে মেরুদন্ডহীন পাবলিক দেশপ্রেমিক সেজেছে।
 
২০১৮ সালে বিশিষ্ট পরিবেশবিদ প্রোফেসার জিডি আগরওয়াল ১১১ দিনের অনশন করে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী টুইট করে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন। সরকারের সংবেদনশীলতার অভাব ও তার সঙ্গে অপার ঔদ্ধত্য আজ সোনম ওয়াংচুককে হত্যা করার পরিকল্পনা সেরে নিয়েছে। মানুষটা যদি মৃত্যুবরণ করে তবে আবার একটা টুইট আসবে। অশিক্ষিত কুলাঙ্গার বেজন্মা দেশদ্রোহীগুলো সোনম ওয়াংচুককে গালাগালি দেবে। আসল একজন দেশপ্রেমিককে বলি দিয়ে ওরা উদ্বাহু নৃত্য করবে। আসল দেশদ্রোহী তারাই যারা ওয়াংচুকের মৃত্যু চাইছে। তারাই আসল দেশদ্রোহী যারা ওয়াংচুকের মৃত্যুর পরবর্তী টুইটের খসড়া লিখে ফেলেছে।
 
প্রসঙ্গত বলে রাখি, সেনাবাহিনী একধরণের তাঁবু ব্যবহার করে। -৬০ ডিগ্রি বরফের মধ্যেও এই তাঁবু সেনাদের ঠান্ডায় মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচায়। এই তাঁবুর মধ্যে ঠাণ্ডা কমাতে ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন, কাঠকুটো এসব কিছুর দরকার পড়েনা। সূর্যের আলো থেকে শক্তি সঞ্চয় করে নেয় তাঁবু। ভেতরটা গরম থাকে। তিরিশ কিলো ওজন। আট দশভাগে ভাগ করে দশজন একটু একটু করে বইতে পারে। কোথাও তাঁবু খাটিয়ে নিলে তার মধ্যে ১২-১৪ জন অনায়াসে গরমের মধ্যে আরামে থাকতে পারে। লাদাখের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে আরও অনেক ধরণের উদ্ভাবন তিনি করেছেন। সেই প্রসঙ্গে যাচ্ছিনা।

এই তাঁবুর উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুক। সেনার কষ্ট লাঘব করার বাসনা থেকে তিনি এই ধরণের উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি সাচ্চা দেশপ্রেমিক। অথচ লম্পট, স্বার্থপর, রাষ্ট্রদ্রোহীরা তাঁকে গালাগালি দিচ্ছে। ওয়াংচুক নাকি দেশের শত্রু! ভাবা যায়! যারা তাঁর দাবির বিরুদ্ধে তারা অশিক্ষিত, কুশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত কুলাঙ্গার, রাষ্ট্রদ্রোহী। সবাইকে বেজন্মা আর কুলাঙ্গার বলে আমার শিক্ষার মান নিচে নামিয়ে এনে আমি একফোঁটাও লজ্জিত নই। কারণ আমাদের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের কোন লজ্জা নেই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কোন লজ্জা নেই

Post a Comment

0 Comments